25.5 C
Moulvibazar
রবিবার, মে ২২, ২০২২

যুক্তরাজ্যের স্টুডেন্ট ভিসার জন্য কিভাবে আবেদন করবেন? কি কি লাগবে?

ব্রিটেনের স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার জন্য কি কি লাগবে, কিভাবে আবেদন করবেন সব জানতে পড়ুন বিস্তারিত।

বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছরই উল্লেখ যোগ্যহারে শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যে পড়ালেখার জন্য যায়। আপনি যদি সদ্য এইচএসসি পাস করেন অথবা বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন অথবা স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন আপনি যুক্তরাজ্যে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। যুক্তরাজ্যের ভিসা আবেদন করার জন্য কিছু নিয়ম কারণ রয়েছে যেগুলো অনেকেরই অজানা অথবা অনেকেই কঠিন মনে করে আবেদন করেন না সেগুলো আমরা আপনাদের কাছে সহজ ভাবে তুলে ধরব।

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের যুক্তরাজ্যের ভিসা প্রাপ্তির হওয়ার গত কয়েক মাস ধরে বেশ আকাশচুম্বী রয়েছে। ব্রিটিশ কাউন্সিল এর তথ্য মতে যুক্তরাজ্যের জন্য বর্তমানে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রাপ্তির হার শতকরা ৯০%। এর সাথে এই বছরের ১ জানুয়ারি থেকে শিথিল করা হয়েছে যুক্তরাজ্যের ওয়ার্ক পারমিট ভিসার নিয়ম কানুনও। সবচাইতে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে যেসব শিক্ষার্থী এই বছরে থেকে স্নাতক অথবা অথবা স্নাতকোত্তর পড়ার জন্য ব্রিটেনে যাবেন যেসব শিক্ষার্থী পড়ালেখা শেষ করে যুক্তরাজ্যে দুই বছর কাজ খোঁজার এবং একই সাথে ফুলটাইম কাজ করারও সুযোগ পাবেন সুযোগ পাবেন। 

শিক্ষাগত যোগ্যতা?

যুক্তরাজ্যের স্টুডেন্ট ভিসার জন্য কিভাবে আবেদন করবেন(1)
প্রতীকী ছবি Image: Pexels

আন্ডারগ্রাজুয়েট বা ব্যাচালার এর জন্যঃ বাংলাদেশের যে কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হতে সদ্য এইচএসসি পাস করা যে কেউ যুক্তরাজ্যের যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দমত বিষয়ে আন্ডারগ্রাজুয়েট কোর্সে আবেদন করতে পারবেন। যুক্তরাজ্যের অত্যন্ত ৯০% এরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ থেকে ৫০% এর বেশি মার্ক পেয়ে পাস করা শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। উল্লেখযোগ্য, ভিসা প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত মার্ক নিয়ে কোনো সমস্যা হয় না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা আলাদা আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয় এক্ষেত্রে ইউনিভার্সিটি বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়।

পোস্ট গ্রাজুয়েট এর জন্যঃ বাংলাদেশের যে কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক অথবা স্নাতকোত্তর শেষ করা যে কেউ যুক্তরাজ্যের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় পোস্ট গ্রাজুয়েট কোর্সে আবেদন করতে পারবেন। কেউ যদি বাংলাদেশ থেকে সদ্য মাস্টার্স পাস করেন অথবা কেউ যদি কয়েক বছর আগেও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন তিনিও যুক্তরাজ্যের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় মাস্টার্স অথবা পিএইচডি কোর্স এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশের যে কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাংলাদেশের প্রাইভেট, পাবলিক অথবা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এগুলো নিয়ে কোনো তফাৎ করে না।

IELTS ফর UKVI না TOEFL?

প্রতীকী ছবি Image: Pixabay

যুক্তরাজ্যের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির জন্য IELTS স্কোর অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়। যেসব শিক্ষার্থী মিনিমাম ৫.৫ পাবেন তারা অনেক সাধারন কোর্সে ভর্তি হতে পারবেন। কোন শিক্ষার্থী যদি ৫.৫ এর নিচে পান তবে  যুক্তরাজ্যে গিয়ে  চার থেকে ছয় সপ্তাহের Pre-Sessional  ইংলিশ কোর্স করে তাদের ডিগ্রি কোর্সে ভর্তি হতে পারবেন। Pre-Sessional কোর্সগুলো সাধারণত যে ইউনিভার্সিটিতে আবেদন করা হয় সে ইউনিভার্সিটি করিয়ে থাকে। IELTS এবং TOEFL  এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে IELTS’ই সবচেয়ে জনপ্রিয়। 

তবে যুক্তরাজ্যের ভিসার নিয়ম কারণে বেশ কিছু শিথিলতা আনায় IELTS ছাড়াও যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবেন। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে বাংলাদেশের যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংলিশ মিডিয়ামে চার বছরের পড়ালেখার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। সাধারণ কোর্সের বাইরে মেডিকেল অথবা ডেন্টিস্ট্রি কোর্সের জন্য IELTS এ ন্যূনতম ৭.০ পয়েন্ট পেতে হবে।

কেমন খরচ পড়বে?

যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে খরচের বিষয়টি সাধারণত তফাৎ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কি এর উপর। যেমন যেসব বিশ্ববিদ্যালয়র র‍্যাঙ্কি বিশ্বের মধ্যে ১০০ এর ভেতর সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের বাৎসরিক ফি বাংলাদেশি টাকায় ২৩/২৪ লাখ পর্যন্ত হয়ে থাকে। মধ্যম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাৎসরিক ফি ১০ লাখ থেকে শুরু করে ২০ লাখ পর্যন্ত হয়। যেমন আপনি যদি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত Queen Mary University of London’এ কম্পিউটার সাইন্স পড়তে চান সেক্ষেত্রে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ফি হবে ২৫ লাখ এর মতো (বিস্তারিত)। একই কোর্স  যদি আপনি যুক্তরাজ্যের হ্যাটফিল্ডে অবস্থিত University of Hertfordshire  এ পড়তে চান তবে বাৎসরিক ফি হবে ১৫ লাখ এর মতো (বিস্তারিত)। 

আপনি যদি মেডিকেলে অথবা ডেন্টিস্ট্রি কোর্সে পড়তে চান সেক্ষেত্রে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য বাৎসরিক ফি হবে ৪০ থেকে ৬০ লাখ এর মত।

তবে বাৎসরিক ফি কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভেঙ্গে ২ বা ৩ বারে দেয়া যায়, একসাথে পুরো ফি না দিলেও হয়।

কী কী ডকুমেন্টের প্রয়োজন?

১। ন্যূনতম ৬ মাসের মেয়াদ সহ অরিজিনাল পাসপোর্ট।

২।  ইউনিভার্সিটি থেকে পাওয়া আমন্ত্রণপত্র বা অফার লেটার।

৩। যুক্তরাজ্যে থাকার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি এর জন্য নুন্যতম ২৮ দিন জমা থাকা বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য কোনও ব্যাংকের স্টেটমেন্ট বা টাকার প্রমাণপত্র। (এটি ইউকের হোম অফিস কে দেখাতে হয় যে আপনি যুক্তরাজ্যে যেয়ে পড়ার খরচ চালানোর মতো সামর্থ্য আছে। ) 

৪। IELTS এর সার্টিফিকেট। 

৫। একাডেমিক সব সার্টিফিকেট। 

৬। স্বাস্থ্য বীমা

৭। টিউবারকিউলোসিস স্ক্রিনিং এর প্রমাণপত্র ইত্যাদি।

এসব কাগজপত্রের সাথে অনেকেই কভার লেটারও জমা দিয়ে থাকেন।

কীভাবে আবেদন করবেন?

উপরোক্ত সবগুলো বিষয় তৈরি থাকার পরই কেবল মাত্র আপনি আবেদন করতে পারবেন।  যদি আপনার উপরের সবগুলো কাগজপত্র তৈরি থাকে তবে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে সহজেই বৃটেনের ভিসার জন্য আবেদন করা যায়। 

ধাপ ১ঃ প্রথমেই একজন শিক্ষার্থীকে ইউনিভার্সিটি তে আবেদন করতে হবে। এর জন্য শিক্ষার্থী তার পছন্দমত করছেন ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে ইউনিভার্সিটিতে আবেদন করবেন। ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীর তথ্য এবং যোগ্যতা যাচাই করে আমন্ত্রণপত্র দিবে। 

ধাপ ২ঃ ইউনিভার্সিটি থেকে কেবল অফার লেটার বা আমন্ত্রণ পত্র পাওয়ার পরই একজন শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্যের সরকারি ওয়েবসাইট (https://www.gov.uk/apply-to-come-to-the-uk) তে ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনে সাকসেসফুলি আবেদন করার পর শিক্ষার্থীকে একটি রেফারেন্স নাম্বার দেয়া হবে। এই রেফারেন্স নাম্বার দিয়ে তখন বাংলাদেশে অবস্থিত VFS সেন্টারে অ্যাপোয়েন্টমেন্ট নিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ছবি তুলে আসতে হবে। ভিসা সেন্টারে বাংলাদেশি টাকায় ৪০ হাজারের মতো ভিসা ফি জমা দিতে হয়। 

শিক্ষার্থীর কাগজপত্র নিয়ে হোম অফিসের কোন বিভ্রান্তি বাকনফিউশন থাকলে তারা সাধারণত শিক্ষার্থীকে ফোন করে অথবা স্কাইপে ইন্টারভিউ নেয়। অন্যান্য ক্ষেত্রে সাধারণত ইন্টারভিউ ছাড়াই ভিসা দেয়ার প্রবণতা ইদানিং দেখা যাচ্ছে। 

ছাত্র হিসাবে কাজ করার সুযোগ

বাংলাদেশের যে কোন শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্যে ছাত্র অবস্থায় সপ্তাহে ২০ ঘন্টা কাজ করার সুযোগ পাবেন (পার্ট টাইম)। তবে যুক্তরাজ্যে সাধারণত বছর ৮ মাস ইউনিভার্সিটি গুলোতে ক্লাস হয়। বাকি চার মাস থাকে  গ্রীষ্মকালীন ছুটি। এই চার মাস সাধারণত সব স্টুডেন্টই ফুলটাইম কাজ করেন। তবে কিছু কিছু কোর্সের ক্ষেত্রে চার মাস ছুটি নাও থাকতে পারে যেমন এমবিবিস অথবা বিডিএস কোর্স।

এই বিভাগের আরও খবর

জুরুরি নোটিশ

দৈনিক মৌলভীবাজার এক্সপ্রেস এর প্রতিটি নিউজ ১০০ ভাগ মৌলিক রাখার চেষ্টা করা হয়। যদি কোন সংবাদকর্মী অথবা সংবাদ সরবরাহকারী কেউ অন্য কোন ওয়েবসাইট থেকে কোন নিউজ কপি করেন এবং তা প্রমাণিত হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা

1,515FansLike
223FollowersFollow
300FollowersFollow
0SubscribersSubscribe

সব খবর