কমলগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক, পুনর্বাসনে সরকারি সহায়তা অব্যাহত

কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। পানি নামার সাথে সাথে জনজীবনও সচল হতে শুরু করেছে। তবে, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকারি সহায়তা কার্যক্রম এখনও পুরোদমে অব্যাহত রয়েছে, যা মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সাহায্য করছে।

গত সপ্তাহে অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে কমলগঞ্জের ধলাই, মনু ও ফানাই নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় উপজেলার আদমপুর, পতনঊষার, মুন্সিবাজার, রহিমপুর ও কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। এতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছিল এবং ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। অনেক আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সাথে সাথে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নেওয়া মানুষজন নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, চাল, ডাল ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামতের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং নতুন করে বীজতলা তৈরির জন্য কৃষকদের কৃষি উপকরণ সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মইনুল ইসলাম বলেন, “বন্যার পানি প্রায় ৯০% নেমে গেছে এবং পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে আছি এবং তাদের পুনর্বাসনের জন্য সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছি। খাদ্য সহায়তা থেকে শুরু করে চিকিৎসা সেবা পর্যন্ত সবকিছুর ব্যবস্থা করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, “বন্যা পরবর্তী সময়ে পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করছেন এবং বিভিন্ন এলাকায় ব্লিচিং পাউডার বিতরণ করা হয়েছে।”

তবে, অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এখনও তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। তাদের ফসলি জমি নষ্ট হওয়ায় এবং ঘরবাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হওয়ায় আর্থিক সংকটে ভুগছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক করিম উদ্দিন (৫০) জানান, “আমার সব ধানক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এখন কীভাবে চলব, সেটাই ভাবছি। সরকারি সহায়তা পেয়েছি, কিন্তু এটা যথেষ্ট নয়। সরকারের কাছে আরও দীর্ঘমেয়াদী সহায়তার আবেদন জানাচ্ছি।”

বন্যা পরবর্তী সময়ে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। ভেঙে যাওয়া রাস্তাঘাট মেরামতের কাজও শুরু হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সরকারি সহায়তার পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমেও ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও কালভার্টগুলো দ্রুত মেরামতের আশ্বাস দিয়েছে।

তবে, বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ ধরনের বন্যা ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন হতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নদী ড্রেজিং, বেড়িবাঁধ সংস্কার এবং বন্যা সহনশীল ফসল চাষের উপর গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here