কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের মধ্যভাগ গ্রামে দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে এবং দুজনকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। রবিবার (১৫ জুন, ২০২৫) সকালে এই ঘটনা ঘটে, যা এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধ্যভাগ গ্রামের বাসিন্দা জহির মিয়া ও তার প্রতিবেশী সলিমুল্লাহ মিয়ার মধ্যে একটি পৈতৃক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধ মীমাংসার জন্য একাধিকবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সালিশি বৈঠক করলেও কোনো সুরাহা হয়নি। সর্বশেষ গত শনিবার রাতে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় এবং পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে শুরু করে। রবিবার সকাল ১০টার দিকে সলিমুল্লাহ মিয়া তার দলবল নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে কাজ শুরু করলে জহির মিয়া ও তার লোকজন বাধা দিতে আসে। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা এবং পরবর্তীতে তা দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহারসহ সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে লাঠিসোঁটা, ফিকল (বাঁশের ফলা) এবং অন্যান্য ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার হয়। এতে জহির মিয়ার পক্ষের করিম উদ্দিন (৪৫), শফিক মিয়া (৪০) এবং সলিমুল্লাহ মিয়ার পক্ষের হারুন রশিদ (৩৮), নূরুল ইসলাম (৩২) ও আজমল খান (৩০) আহত হন। আহতদের মধ্যে করিম উদ্দিনের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং হারুন রশিদের হাত ভেঙে গেছে। খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শাহীনুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে মারামারির খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সংঘর্ষের পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা আবারও এই ভূমি বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকে নিয়ে বসার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। তবে গ্রামবাসী আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সুরাহা না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।









