শ্রীমঙ্গলে চা নিলাম কেন্দ্রে বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ বৃদ্ধি, রপ্তানি আয়ের সম্ভাবনা

শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক চা নিলাম কেন্দ্রে বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক নিলামগুলোতে চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান এবং অন্যান্য দেশ থেকে ক্রেতাদের উপস্থিতি ও ক্রয়াদেশ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশের চা রপ্তানি আয়ের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। রবিবার (১৫ জুন, ২০২৫) অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নিলামে রেকর্ড পরিমাণ চা বিক্রি হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল চা নিলাম কেন্দ্রটি ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, যার লক্ষ্য ছিল চট্টগ্রামের উপর চাপ কমানো এবং সিলেট অঞ্চলের চা উৎপাদনকারীদের জন্য সরাসরি বাজার তৈরি করা। শুরু থেকেই স্থানীয় ও দেশীয় ক্রেতাদের সরব উপস্থিতি থাকলেও, গত কয়েক মাস ধরে বিদেশি ক্রেতাদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে, উন্নত মানের এবং বিশেষায়িত চায়ের প্রতি বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে শ্রীমঙ্গল চা নিলাম কেন্দ্রে চায়ের গড় মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিক্রির পরিমাণও বেড়েছে। সম্প্রতি চায়না ন্যাশনাল টি কোম্পানি (সিএনটিসি), দুবাইয়ের ফুক্সিয়া টি এবং পাকিস্তানের একটি শীর্ষস্থানীয় চা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে নিলামে অংশ নিচ্ছে। তাদের অংশগ্রহণ বাজারের প্রতিযোগিতা বাড়িয়েছে এবং চায়ের ভালো দাম নিশ্চিত করছে।

শ্রীমঙ্গল চা নিলাম কেন্দ্রের চেয়ারম্যান বলেন, “বিদেশি ক্রেতাদের উপস্থিতি আমাদের জন্য খুবই উৎসাহজনক। এটি প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের চায়ের গুণগত মান আন্তর্জাতিক বাজারে সমাদৃত হচ্ছে। বিদেশি ক্রেতারা মূলত অর্থোডক্স চা এবং বিশেষ ধরনের গ্রিন টি ও হোয়াইট টিতে বেশি আগ্রহী। আমরা আশা করছি, আগামী দিনগুলোতে আরও বেশি বিদেশি ক্রেতা এই নিলামে অংশ নেবেন, যা আমাদের রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।”

চা বাগান মালিকরা জানান, বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহের কারণে তারা উচ্চ মানের চা উৎপাদনে উৎসাহিত হচ্ছেন। তারা গুণগত মান উন্নয়নে বিনিয়োগ করছেন এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। এছাড়া, জৈব চা উৎপাদনের প্রতিও অনেক বাগানের আগ্রহ বাড়ছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বেশি চাহিদা তৈরি করবে।

যদিও বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে, তবে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চায়ের ব্র্যান্ডিং, পরিবহন ও লজিস্টিকস সুবিধা উন্নত করা এবং বিদেশি মুদ্রায় লেনদেনের সহজীকরণ। সরকার এবং চা বোর্ড এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় কাজ করছে বলে জানা গেছে।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, শ্রীমঙ্গল চা নিলাম কেন্দ্র বিদেশি ক্রেতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করতে পারে। সঠিক নীতি সহায়তা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের চা বিশ্ববাজারে আরও বড় স্থান করে নিতে পারবে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here