শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চা বাগানের নারী শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে একটি বিশেষ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো নারী শ্রমিকদের প্রজনন স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সঠিক তথ্য প্রদান ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। রবিবার (১৫ জুন, ২০২৫) থেকে মাসব্যাপী এই কর্মসূচি চালু হয়েছে।
শ্রীমঙ্গলের চা বাগানগুলোতে কর্মরত নারী শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হলেও, তাদের স্বাস্থ্য ও জীবনমান প্রায়শই অবহেলিত থেকে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে কঠিন পরিশ্রম, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতার কারণে তারা বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভোগেন। বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের প্রজনন স্বাস্থ্য এবং গর্ভকালীন পরিচর্যা একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা ‘স্বাস্থ্য অধিকার ফোরাম’ এর যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। কর্মসূচির আওতায় চা বাগানের বিভিন্ন লাইনে স্বাস্থ্য ক্যাম্প আয়োজন করা হবে, যেখানে ডাক্তার ও নার্সরা নারী শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহ করবেন। এছাড়া, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা প্রজনন স্বাস্থ্য, মাসিকের সময় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সেশন পরিচালনা করবেন।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “চা বাগানের নারী শ্রমিকরা আমাদের সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা তাদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করতে চাই, যাতে তারা নিজেদের এবং তাদের সন্তানদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে যত্নশীল হতে পারেন।” তিনি আরও জানান, “আমরা নিয়মিত স্বাস্থ্য ক্যাম্পের পাশাপাশি মোবাইল মেডিকেল টিমও পাঠাব, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শ্রমিকরাও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।”
‘স্বাস্থ্য অধিকার ফোরাম’ এর একজন কর্মী জানান, তাদের লক্ষ্য হলো নারী শ্রমিকদের মধ্যে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করা এবং তাদের সঠিক স্বাস্থ্যচর্চায় উৎসাহিত করা। তারা গর্ভকালীন মায়েদের জন্য বিশেষ পুষ্টি সহায়তা এবং নিরাপদ প্রসবের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করবেন।
চা বাগানের নারী শ্রমিক গীতা রানী (৪০) বলেন, “আমাদের জন্য এটা খুব ভালো উদ্যোগ। আমরা অনেকেই স্বাস্থ্য বিষয়ে তেমন কিছু জানি না। এখন ডাক্তাররা এসে সব বুঝিয়ে দিচ্ছেন। আমাদের জন্য স্বাস্থ্য ক্যাম্পের খুব প্রয়োজন ছিল।”
স্থানীয় চা বাগান মালিক সমিতি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। তারা মনে করছেন, সুস্থ শ্রমিকরাই একটি সুস্থ ও উৎপাদনশীল বাগান তৈরি করতে পারে। এই স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মসূচি চা বাগানের নারী শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে এবং সার্বিক স্বাস্থ্য সূচক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।















