কুলাউড়া, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় মৎস্য চাষের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এবং স্থানীয় মৎস্যজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধিকল্পে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্যজীবীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন। রবিবার (১৫ জুন, ২০২৫) দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কুলাউড়া উপজেলায় অসংখ্য পুকুর, দিঘী এবং হাওর-বাঁওড় রয়েছে, যা মৎস্য চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানকার মাটি ও জলবায়ু মাছ চাষের অনুকূলে। তবে, আধুনিক প্রযুক্তির অভাব এবং সনাতন পদ্ধতির ওপর নির্ভরতার কারণে এ অঞ্চলের মৎস্য খাত তার পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারছিল না। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য উপজেলা মৎস্য দপ্তর নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় কুলাউড়ার শতাধিক মৎস্যজীবী ও আগ্রহী যুবক অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় মাছের প্রজাতি নির্বাচন, উন্নত জাতের পোনা উৎপাদন ও সংগ্রহ, পুকুর প্রস্তুতি, সঠিক খাদ্যের ব্যবহার, রোগ নির্ণয় ও প্রতিকার, এবং বাজারজাতকরণের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তারা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মাছ চাষের পদ্ধতি, যেমন বায়োফ্লক এবং আরএএস (Recirculating Aquaculture System) পদ্ধতি সম্পর্কেও ধারণা দেন। এছাড়া, মাছ চাষে সরকারি ঋণ ও ভর্তুকি প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সম্পর্কেও অবহিত করা হয়।
কুলাউড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, “কুলাউড়ায় মৎস্য খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সঠিক পদ্ধতি এবং বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে চাষ করলে কৃষকরা অনেক বেশি লাভবান হতে পারবেন। আমাদের লক্ষ্য হলো মাছ চাষকে আরও লাভজনক করে তোলা এবং শিক্ষিত যুবকদের এই খাতে আগ্রহী করা।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মৎস্যজীবীরা তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়াতে পারবেন, যা তাদের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।”
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া মৎস্যজীবী হাবিবুর রহমান (৪৫) বলেন, “আমরা এতদিন পুরোনো পদ্ধতিতেই মাছ চাষ করে আসছি। এই প্রশিক্ষণ থেকে নতুন নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারলাম, যা আমাদের অনেক কাজে লাগবে। বিশেষ করে, মাছের রোগ দমন এবং সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি আমাদের উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করবে।”
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, মৎস্য খাতে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য সরকার কৃষকদের সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কুলাউড়ার মৎস্য খাত আরও সমৃদ্ধ হবে এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধুমাত্র প্রশিক্ষণ নয়, মৎস্যজীবীদের জন্য উন্নত মানের পোনা ও খাদ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো গেলে এই খাতের প্রকৃত সম্ভাবনা উন্মোচিত হবে।












