কুলাউড়ায় চা বাগান শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারি প্রকল্পের ধীর গতি, ক্ষোভ প্রকাশ

কুলাউড়া, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন চা বাগানে বসবাসরত হাজার হাজার শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের গৃহীত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অত্যন্ত ধীর গতিতে চলছে, যা শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। আবাসন, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণে প্রকল্পগুলোর কার্যকরী বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন চা শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

চা বাগান অধ্যুষিত কুলাউড়া উপজেলায় প্রায় ৫০টির বেশি ছোট-বড় চা বাগান রয়েছে, যেখানে কয়েক প্রজন্ম ধরে লাখো শ্রমিক মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন সময়ে নানামুখী প্রকল্প গ্রহণ করলেও, সেগুলোর সুফল অধিকাংশ শ্রমিকের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। বিশেষ করে, ‘আবাসন প্রকল্প’ যার মাধ্যমে শ্রমিকদের জন্য উন্নত ঘর নির্মাণের কথা ছিল, তা বাগানের অনেক শ্রমিক লাইনেই এখনও অপ্রাপ্ত। অনেক শ্রমিক এখনও জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা বর্ষাকালে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার আমাদের জন্য অনেক প্রকল্প ঘোষণা করে, কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়নের চিত্র হতাশাজনক। শ্রমিকদের জন্য যে ঘরগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর কাজ অত্যন্ত ধীর গতিতে চলছে। স্যানিটেশন ব্যবস্থারও উন্নতি হয়নি। অধিকাংশ শ্রমিক লাইনে পর্যাপ্ত টয়লেট বা বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই।” তিনি আরও যোগ করেন, “স্বাস্থ্যসেবার অবস্থাও করুণ। বাগানের ডিসপেনসারিগুলোতে পর্যাপ্ত ডাক্তার বা ঔষধ নেই, ফলে সামান্য অসুস্থতাতেও শ্রমিকদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আমাদের ছেলেমেয়েদের শিক্ষার সুযোগও সীমিত।”

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত তিন বছরে কুলাউড়ার বিভিন্ন চা বাগানে প্রায় ৫০০টি গভীর নলকূপ স্থাপন এবং ৩০০টি ল্যাট্রিন নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও, অর্ধেকেরও বেশি কাজ এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে। প্রকল্পের তহবিলের অপ্রতুলতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অবশ্য বলছেন, তারা শ্রমিকদের উন্নয়নে সর্বদা সচেষ্ট। কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, “আমরা চা শ্রমিকদের সমস্যাগুলো সম্পর্কে অবগত। প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু জটিলতা থাকলেও, আমরা সেগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আমরা একাধিকবার চিঠি পাঠিয়েছি এবং তহবিল দ্রুত ছাড় করার জন্য অনুরোধ করেছি।”

তবে শ্রমিকরা বলছেন, কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ প্রয়োজন। তাদের অভিযোগ, চা বাগানের মালিকপক্ষও শ্রমিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণে উদাসীন। আসন্ন চা শ্রমিক ধর্মঘটের হুমকিও দেওয়া হয়েছে যদি তাদের দাবিগুলো দ্রুত পূরণ করা না হয়। চা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও উন্নত জীবনমানের দাবি এখন কুলাউড়ার স্থানীয় রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here