শ্রীমঙ্গলে পরিবেশবান্ধব পর্যটন বিকাশে নতুন উদ্যোগ, স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগ

শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার: প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি শ্রীমঙ্গলে পরিবেশবান্ধব পর্যটন (ইকো-ট্যুরিজম) বিকাশে নতুন করে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগ এবং স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের এক যৌথ সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।

শ্রীমঙ্গল, যা ‘বাংলাদেশের চায়ের রাজধানী’ নামে পরিচিত, তার নয়নাভিরাম চা বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, হ্রদ এবং বন্যপ্রাণীর জন্য দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে, অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন এবং পরিবেশগত সচেতনতার অভাবে কিছু এলাকায় পরিবেশের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং পর্যটন খাতকে আরও টেকসই করতে ইকো-ট্যুরিজমের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত নতুন উদ্যোগে স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে পর্যটকদের কাছে তুলে ধরা হবে। এর মধ্যে রয়েছে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর (বিশেষত মনিপুরী ও খাসিয়া) জীবনযাত্রা, হস্তশিল্প ও খাদ্যের প্রদর্শন। এছাড়া, পর্যটকদের জন্য প্রকৃতিতে হেঁটে চলার পথ (নেচার ট্রেইল), পাখি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, স্থানীয় ফল ও সবজির বাগান পরিদর্শনের সুযোগ তৈরি করা হবে। পর্যটকদের থাকার জন্য ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত পরিবেশবান্ধব কটেজ তৈরি করা হবে, যা স্থানীয় উপকরণ ব্যবহার করে নির্মিত হবে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাসের রহমান বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো শ্রীমঙ্গলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে অক্ষুণ্ণ রেখে পর্যটনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। ইকো-ট্যুরিজমের মাধ্যমে আমরা স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে চাই, যাতে তারা পর্যটন খাতের সুবিধাভোগী হতে পারেন।” তিনি আরও জানান, “এই প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় গাইডদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যারা পর্যটকদের প্রকৃতি ও স্থানীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে অবহিত করবেন। পাশাপাশি, পর্যটকদের কাছ থেকে সংগৃহীত আয়ের একটি অংশ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।”

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের রেঞ্জ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, “জাতীয় উদ্যানের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় আমরা অত্যন্ত সজাগ। ইকো-ট্যুরিজম প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা পর্যটকদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারব এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সুরক্ষায় আরও কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পারব।”

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, এতে শ্রীমঙ্গলের পর্যটন আরও বৈচিত্র্যময় হবে এবং পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়বে। স্থানীয় যুবকদের মধ্যে অনেকেই ইকো-ট্যুরিজম গাইড হিসেবে প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যা তাদের জন্য আয়ের নতুন উৎস খুলে দেবে। শ্রীমঙ্গলের পরিবেশবান্ধব পর্যটন প্রকল্প শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নই নয়, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সংস্কৃতির বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here