কুলাউড়া, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় একটি অত্যাধুনিক ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এই নতুন স্টেশনটি কুলাউড়াসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার অগ্নি নিরাপত্তা জোরদারে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। রবিবার (১৫ জুন, ২০২৫) নির্মাণাধীন স্টেশন পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই তথ্য জানান।
কুলাউড়া উপজেলা একটি ঘনবসতিপূর্ণ এবং বাণিজ্যিক এলাকা। এখানে বিভিন্ন ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠান, বাজার এবং অসংখ্য আবাসিক ভবন রয়েছে। পুরনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি ছোট এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি ও লোকবলের সংকটে ভুগছিল, যার কারণে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় প্রায়শই বেগ পেতে হতো। এই সমস্যা নিরসনে সরকার কুলাউড়ায় একটি আধুনিক ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে।
নতুন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি কুলাউড়া শহরের উপকণ্ঠে, প্রধান সড়কের পাশেই প্রায় দুই একর জমির ওপর নির্মিত হচ্ছে। এতে একটি তিনতলা প্রশাসনিক ভবন, ফায়ার ফাইটারদের জন্য ব্যারাক, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও যানবাহনের জন্য গ্যারেজ, প্রশিক্ষণ কক্ষ, এবং একটি জরুরি কমান্ড সেন্টার থাকবে। স্টেশনটিতে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, উদ্ধারকারী সরঞ্জাম এবং একটি আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স সংযুক্ত করা হবে। এছাড়া, নতুন করে আরও জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
মৌলভীবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক বলেন, “কুলাউড়ার নতুন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি একটি মডেল স্টেশন হবে। এতে অগ্নিনির্বাপণ, উদ্ধার অভিযান এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় আমাদের সক্ষমতা অনেক বাড়বে। এর মাধ্যমে কুলাউড়ার জনগণ আরও দ্রুত এবং উন্নত সেবা পাবে।” তিনি আরও জানান, “নির্মাণ কাজ প্রায় ৮০% সম্পন্ন হয়েছে এবং আশা করছি আগামী ছয় মাসের মধ্যে এটি সম্পূর্ণরূপে চালু করা সম্ভব হবে।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী নেতারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, এই স্টেশনটি কুলাউড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এবং এটি এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। কুলাউড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি বলেন, “ব্যবসায়ীরা সবসময় অগ্নিকাণ্ডের ভয়ে থাকেন। এই আধুনিক স্টেশনটি আমাদের মধ্যে নিরাপত্তা বোধ তৈরি করবে এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হবে।”
নতুন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি চালু হলে শুধু অগ্নিনির্বাপণ নয়, সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতেও এটি দ্রুত সেবা প্রদান করতে সক্ষম হবে। এটি কুলাউড়ার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে হ্রাস পাবে।












